প্রথম শ্রেণীতে পড়ার সময়কার কথা (তখন শ্রেণী বানান শ্রেণীই ছিল, শ্রেণি হয় নি)।
বাসার ছোট নবাব হিসেবে নিয়মিত থোক বরাদ্দ ছিল টফি - একটু ভালো কিছু করলে আজিজ মিল্ক কিংবা অরেঞ্জ মিমি চকলেট - আরও ভালো কিছু করলে ক্যাডবেরি।
মানে, ভালো - ভালোতর - ভালোতম; এই আর কি!!
একসময় খেয়াল করলাম রাতে বিছানায় পিশু না করলে সেদিন বাসায় ক্যাডবেরি আসতেছে!! আর করলে কাইগুই করে বিংগো ক্যান্ডি আসে। ক্যাডবেরির অমোঘ আকর্ষণে আলসেমি পরিত্যাগ করে চোখভরা ঘুম নিয়েও মাঝরাতে বিছানা ছেড়ে উঠে যথাস্থানে গিয়ে পিশু করে আসতে লাগলাম।
জগতে সব সুখেরই শেষ আছে।
সেই নিয়মেই কিছুদিন পর বাসায় যথারীতি আজিজ মিল্ক আসা শুরু হলো। প্রথমে বুঝি নি, ভেবেছি দোকানে ক্যাডবেরি হয়তো আজ শেষ, কাল নিশ্চয়ই আসবে!! পরের একাধিক দিন আজিজ মিল্ক আসায় অগত্যা বুঝে গেলাম যে "বিছানায় পিশু নিবারণ" কোটায় (Quota) পুরস্কার বিতরণী শেষ।
এবারে বুদ্ধি করে(!) বিছানায় আবার পিশু করলাম দু রাত। এ দুদিন বিংগো ক্যান্ডিও বাসায় আসে নি। তৃতীয় রাতে পিশুটা যথাস্থানে সেরে এলাম, সেদিন ক্যাডবেরি এলো.. এভাবে দু তিন দিন পরপর ক্যাডবেরি ভালোই আসছিল, চলছিল সব কিছু ভালোই..
কিন্তু ওই যে বললাম না?!
জগতে সব সুখেরই শেষ আছে।
সেভাবেই একদিন এই মহান বুদ্ধি পাশের বাসার বন্ধু রে দিয়ে দিলাম। মীর জাফর বন্ধু প্রথম রাতে পিট্টি খেয়েই সব স্বীকার গেলো তার মায়ের কাছে। আর অ্যান্টি এসে ঘসেটি বেগমের মতো হাসতে হাসতে সব বলে দিলো আম্মুকে..
এরপর বাকিটা সে এক করুণ ইতিহাস!!!
বাসার ছোট নবাবের ক্যাডবেরি স্বাধীনতা হারাবার ইতিহাস.. আর আম্মুর হাতে শলার ঝাড়ু মৃদুমন্দ আন্দোলনের ইতিহাস। যে ইতিহাস এখনো পূর্ণিমা অমাবস্যায় গিরায় গিরায় এসে তাঁর উপস্থিতি জানান দেয়!!!! ;)
পুনশ্চঃ সব চরিত্র কাল্পনিক!!! ;)
Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts
Wednesday, April 22, 2015
Saturday, October 4, 2014
গরুকাহিনী
লিকলিকে, হাড় জিরজিরে, পাছা সরু;
কিনেছি রে ভাই এক খানা দেশী গরু।।
ভাবতেছিলাম ছোটখাট দেশী পশু, তেমন জ্বালাবে না। গোল গোল চোখ দিয়া ড্যাব ড্যাবাইয়া তাকাইয়া মায়া বাড়াবে। বাড়ি নিয়া গিয়া - গোসল দিয়া ঘাস পাতা খাওয়াবো। ভুষি মাড় ইত্যাদি দিয়া যত্নআত্তি করবো। খড়বিচুলি মুঠি কইরা নিয়া নিজের হাতে খাওয়ায় দিবো - একটা মহেশ মহেশ ভাব আসবে। গফুরের মতো মনটা আর্দ্র হইয়া উঠলো - নিজের মধ্যে বেশ গফুর গফুর একটা ভাব চইলা আসছিল।
প্রথম কিছুটা পথ গরু সাব বেশ ভালোই ছিলেন। নিতান্ত শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট নিরীহ প্রাণী। অবলা অবলা দৃষ্টিতে তাকায়। তাড়া দেয়া লাগে না, নিজেই সাথে সাথে চইলা আসে। মাঝপথে পেছন থেকে একটা গাড়ির বেমক্কা প্যাপ শুনে এক লাফে গরু নিজেই গাড়ি হইয়া উঠলো।
ভাই রে ভাই! গরু কিনছি না ঘোড়া কিনছি - সেইটা বুঝার আগেই পঙ্খীরাজের গতি লইলো গরু ডা!! নিজেরে সামলামু নাকি গরু সামলামু - লগের লোকজন আগেই পিছায় পড়ছে। কিন্তু হৃদয়ে সদ্য জাগা গফুর হাতের দড়ি ছাড়লো না। (আসল কথাঃ হাতে দড়ি প্যাঁচায় গেছিলো।)
ম্যালা কষ্টে এবং ভারী শরীরের গুণে লিকলিকে গরু তথা পঙ্খীরাজটারে থামাইলাম (জীবনে পরথম এই অধমের বেশি ওজন কুনু কাজে আসিলো!)। ইতিমধ্যে সাথের লোকজন হুড়মুড় কইরা আইসা দড়ি হাত থেকে নিয়া এই ধাওয়া খাওয়া গফুররে রেহাই দিলো।
পিতাজি জ্ঞান দিলেন, "জানের চে গরুর দাম বেশি না রে ব্যাটা!! এমনে গরুর সাথে কেউ দৌড়ায়?!" এখন বাপেরে তো আর বলা যায় না যে গরুর দড়ির আরেক মাথায় প্যাঁচ খাইছিলাম। এমনেই গরু গরু কয়, এরপর কইবো হাটে গেছিলাম একটা গরু আনতে - আনসি এক দড়িতে দুই গরু; একটা মোটা আরেকটা সরু!! ;)
গরুটার জন্য মায়া লাগতেছে, কোন গফুরের আঙ্গিনা - গোয়াল খালি কইরা নিয়া আসলাম কে জানে?! হয়তো সন্তানসম যত্নে পালতো গরুটারে। গরুটারে গোসল দিয়া খাওয়াইলাম। একটু দুষ্ট পোলাপাইনরে মা বাপ ক্যান বেশি ভালবাসে সেইটার এক কণা বুঝলাম। ভালো জ্বালাইছে তো, আবার ঠাণ্ডা হইয়া পাশেও ঘেঁষতেছে। আদর এ পাইবে না তো কুন গরু পাইবে?! ছোটবেলার কথা মনে পড়লো, একসময় গরু দেখলেই মহেশ মহেশ লাগতো। প্রায়ই কোরবানির আগে ভাবতাম, এই গরুটারে কোরবানি না দিলে হয় না?! অনেকদিন পর আবার সে রকম মনে হইলো!!
মহেশ মহেশ ভাবওয়ালা গরুটার পাশে নিজেরে গফুর গফুর লাগতেছে।
তা লাগুক, তবু গৃহীত হউক এই আত্মত্যাগ।
কিনেছি রে ভাই এক খানা দেশী গরু।।
ভাবতেছিলাম ছোটখাট দেশী পশু, তেমন জ্বালাবে না। গোল গোল চোখ দিয়া ড্যাব ড্যাবাইয়া তাকাইয়া মায়া বাড়াবে। বাড়ি নিয়া গিয়া - গোসল দিয়া ঘাস পাতা খাওয়াবো। ভুষি মাড় ইত্যাদি দিয়া যত্নআত্তি করবো। খড়বিচুলি মুঠি কইরা নিয়া নিজের হাতে খাওয়ায় দিবো - একটা মহেশ মহেশ ভাব আসবে। গফুরের মতো মনটা আর্দ্র হইয়া উঠলো - নিজের মধ্যে বেশ গফুর গফুর একটা ভাব চইলা আসছিল।
প্রথম কিছুটা পথ গরু সাব বেশ ভালোই ছিলেন। নিতান্ত শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট নিরীহ প্রাণী। অবলা অবলা দৃষ্টিতে তাকায়। তাড়া দেয়া লাগে না, নিজেই সাথে সাথে চইলা আসে। মাঝপথে পেছন থেকে একটা গাড়ির বেমক্কা প্যাপ শুনে এক লাফে গরু নিজেই গাড়ি হইয়া উঠলো।
ভাই রে ভাই! গরু কিনছি না ঘোড়া কিনছি - সেইটা বুঝার আগেই পঙ্খীরাজের গতি লইলো গরু ডা!! নিজেরে সামলামু নাকি গরু সামলামু - লগের লোকজন আগেই পিছায় পড়ছে। কিন্তু হৃদয়ে সদ্য জাগা গফুর হাতের দড়ি ছাড়লো না। (আসল কথাঃ হাতে দড়ি প্যাঁচায় গেছিলো।)
ম্যালা কষ্টে এবং ভারী শরীরের গুণে লিকলিকে গরু তথা পঙ্খীরাজটারে থামাইলাম (জীবনে পরথম এই অধমের বেশি ওজন কুনু কাজে আসিলো!)। ইতিমধ্যে সাথের লোকজন হুড়মুড় কইরা আইসা দড়ি হাত থেকে নিয়া এই ধাওয়া খাওয়া গফুররে রেহাই দিলো।
পিতাজি জ্ঞান দিলেন, "জানের চে গরুর দাম বেশি না রে ব্যাটা!! এমনে গরুর সাথে কেউ দৌড়ায়?!" এখন বাপেরে তো আর বলা যায় না যে গরুর দড়ির আরেক মাথায় প্যাঁচ খাইছিলাম। এমনেই গরু গরু কয়, এরপর কইবো হাটে গেছিলাম একটা গরু আনতে - আনসি এক দড়িতে দুই গরু; একটা মোটা আরেকটা সরু!! ;)
গরুটার জন্য মায়া লাগতেছে, কোন গফুরের আঙ্গিনা - গোয়াল খালি কইরা নিয়া আসলাম কে জানে?! হয়তো সন্তানসম যত্নে পালতো গরুটারে। গরুটারে গোসল দিয়া খাওয়াইলাম। একটু দুষ্ট পোলাপাইনরে মা বাপ ক্যান বেশি ভালবাসে সেইটার এক কণা বুঝলাম। ভালো জ্বালাইছে তো, আবার ঠাণ্ডা হইয়া পাশেও ঘেঁষতেছে। আদর এ পাইবে না তো কুন গরু পাইবে?! ছোটবেলার কথা মনে পড়লো, একসময় গরু দেখলেই মহেশ মহেশ লাগতো। প্রায়ই কোরবানির আগে ভাবতাম, এই গরুটারে কোরবানি না দিলে হয় না?! অনেকদিন পর আবার সে রকম মনে হইলো!!
মহেশ মহেশ ভাবওয়ালা গরুটার পাশে নিজেরে গফুর গফুর লাগতেছে।
তা লাগুক, তবু গৃহীত হউক এই আত্মত্যাগ।
Friday, October 3, 2014
ছাগভাষা সমাচার কিংবা একটি ফাঁপরের গপ্প
অতঃপর ছেলেটি বলল তাঁর লেখা নাকি অনেক পত্রিকায় যায়, অনেক লোক সেটা নকল
করে চারটে খায়। ফাঁপরে অস্থির এক ভাই পত্রিকার একটা লেখা দেখতে চাইলে অবশ্য
ছেলেটি "অনেক পত্রিকায় আসে - নির্দিষ্ট করে মনে করা কঠিন" ইত্যাদি বলে দিল।
কপালফেরে কিংবা ভাগ্যদোষে খোমাবইয়ে ছেলেটির কিছু চর্বিত চর্বণ ধাঁচের লেখা দেখেছিলাম। তার জেরে এই অধমকেই সাক্ষী মেনে বসলো ছেলেটি। কান চুলকাতে চুলকাতে উত্তর দিলাম, "ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁ, ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁহ..."
আড্ডার সবাই হাত পা ঝাড়া দিয়ে এই দিকে ফিরলো। চোখেমুখে কৌতুক কিংবা কৌতূহলের ঝিলিক। ঘটনা কি, জানতে উৎসুক সবাই। সবার আগ্রহ দেখে খেই হারিয়ে ফেলা ফাঁপরা ছেলেটি আবার সাক্ষ্য দিতে বলায় আবার বললাম, "ম্যা.. ম্যাঅ্যাঁ... ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁহ...."
এক ভাই ঘটনা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো, "হইলো কি তোমার?!"
বললাম, "ভাই ছাগলরে ছাগলের ভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করতেছিলাম যে ফাঁপর টাপর ফোকলা ফোঁপরে এই অধম নাই! এখন ছাগলের ভাষা বিশেষ না জানায় ওই ম্যা ম্যা দিয়াই কাজ চালানোর চেষ্টা করতেছি।"
এই বলেই আবার ফাঁপরা ছেলেটির দিকে ফিরে বললাম, "ম্যাঅ্যাঁ, ম্যাঅ্যাঁহ, ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁহহ..."
এতক্ষণ সবাই ফাঁপরের গুমোটে হাঁসফাঁস করছিল, এবারে সম্মিলিত নির্মল হাসিতে সে গুমোট কেটে গেল।
এইটা বেশ কিছুদিন আগের কথা। আজ পর্যন্ত পত্রিকা বা কোথাও (খোমাবই বাদে) কোন লেখা ফাঁপরা ছেলেটি দেখাতে পারে নি। সকাল থেকে নীচে দুই জোড়া ছাগলের মিলিত ডাকাডাকিতে ঘুমের দফা রফা। একবার মনে হয়েছিল ছাগলের ভাষা জানা থাকলে খানিক কষে বকে দিতাম। এরপরই মনে পড়লো সেইদিনের ফাঁপরা ছেলেটির কথা.. বিরক্তি নিমেষে উধাও হয়ে মুচকি হাসিতে দিন শুরু হলো...
কপালফেরে কিংবা ভাগ্যদোষে খোমাবইয়ে ছেলেটির কিছু চর্বিত চর্বণ ধাঁচের লেখা দেখেছিলাম। তার জেরে এই অধমকেই সাক্ষী মেনে বসলো ছেলেটি। কান চুলকাতে চুলকাতে উত্তর দিলাম, "ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁ, ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁহ..."
আড্ডার সবাই হাত পা ঝাড়া দিয়ে এই দিকে ফিরলো। চোখেমুখে কৌতুক কিংবা কৌতূহলের ঝিলিক। ঘটনা কি, জানতে উৎসুক সবাই। সবার আগ্রহ দেখে খেই হারিয়ে ফেলা ফাঁপরা ছেলেটি আবার সাক্ষ্য দিতে বলায় আবার বললাম, "ম্যা.. ম্যাঅ্যাঁ... ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁহ...."
এক ভাই ঘটনা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো, "হইলো কি তোমার?!"
বললাম, "ভাই ছাগলরে ছাগলের ভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করতেছিলাম যে ফাঁপর টাপর ফোকলা ফোঁপরে এই অধম নাই! এখন ছাগলের ভাষা বিশেষ না জানায় ওই ম্যা ম্যা দিয়াই কাজ চালানোর চেষ্টা করতেছি।"
এই বলেই আবার ফাঁপরা ছেলেটির দিকে ফিরে বললাম, "ম্যাঅ্যাঁ, ম্যাঅ্যাঁহ, ম্যাঅ্যাঁঅ্যাঁহহ..."
এতক্ষণ সবাই ফাঁপরের গুমোটে হাঁসফাঁস করছিল, এবারে সম্মিলিত নির্মল হাসিতে সে গুমোট কেটে গেল।
এইটা বেশ কিছুদিন আগের কথা। আজ পর্যন্ত পত্রিকা বা কোথাও (খোমাবই বাদে) কোন লেখা ফাঁপরা ছেলেটি দেখাতে পারে নি। সকাল থেকে নীচে দুই জোড়া ছাগলের মিলিত ডাকাডাকিতে ঘুমের দফা রফা। একবার মনে হয়েছিল ছাগলের ভাষা জানা থাকলে খানিক কষে বকে দিতাম। এরপরই মনে পড়লো সেইদিনের ফাঁপরা ছেলেটির কথা.. বিরক্তি নিমেষে উধাও হয়ে মুচকি হাসিতে দিন শুরু হলো...
Monday, September 29, 2014
একটি ফেসবুকীয় কঠিন গপ্প
এক সুশ্রী বালিকা ভিতরকার বাক্সে (ইনবক্সে) তাহার গোসলখানায় (বাথরুমে) স্বহস্তে গৃহীত খোমাছবির সূত্র (সেলফি, প্রোফাইল পিকের লিঙ্ক) দিয়া কহিল, ক্যামন হইয়াছে তাহা যেন বলিয়া উহারে ধইন্ন করি।
মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যে বুঝিলাম, বালিকা একটি পছন্দ (লাইক) চাহিতেছে।
কিন্তু পছন্দ (লাইক) তো আর ব্যাংকনোটের মতন নয় যে লিখা থাকিবে - চাহিবামাত্র বালিকাকে দিতে বাধ্য থাকিবো। অতএব কথা ঘুরাইলাম। কহিলাম, চিত্র ভালোই হইয়াছে। কেবল চিত্রগ্রহণে বিচিত্রতা নাই! বালিকা শুনিয়া আর কিছু কহিল না। ভাবিলাম, বাঁচিয়াছি।
কিন্তু কিসের কি?! কিছুক্ষণ পর বালিকা নতুন এক খোমাচিত্র আরও বিচিত্র ভঙ্গিতে ধারণ করিয়া তাহা কিরূপ হইয়াছে জানিতে চাহিলো। মনে মনে প্রমাদ গুনিলাম। প্রকট সংকটেই কট খাইয়াছি।
এদিকে বালিকা তো নাছোড়, খোমাচিত্র কিরূপ হইয়াছে - আর কিরূপে তুলিবে - কোন কোণা দিয়া তুলিলে আরও উত্তম দেখাইবে ইত্যাদি নানাবিধ মিষ্ট জিজ্ঞাসায় অধমকে অতিষ্ঠ করিয়া তুলিয়াছে।
বালিকা যাহা বলে তাহাতেই হু হ্যাঁ করিয়া দিব্যি সারিয়া যাইতেছিলাম বলিয়াই কিনা জানি না, বালিকা এবারে চক্ষুর মাথা খাইয়া তাহার খোমাচিত্রে পছন্দ চাহিয়া বসিলো। এতক্ষণ হু হ্যাঁ করিতেছিলাম, এইবারে তাহার সহিত আমতা আমতা লাগাইলাম। তদুপরি বালিকার কুনু মায়া দয়া নাই, তাহার এক্কখানা পছন্দ চাইই চাই।
এইবারে মোক্ষম চাল চালিলাম। কহিলাম চিত্র সুন্দর, চিত্রের বিষয়বস্তুও সুন্দর। তবে কিনা চিত্রের গ্রহণযন্ত্র (ক্যামেরা) উত্তম নহে। তাই চিত্র পছন্দযোগ্য হয় নি। কিন্তু এই বয়ানেও বালিকার মন গলিল না, বালিকা তাহার পছন্দ আদায় করিতে দৃঢ়সংকল্প। সে পুনঃপুনঃ পছন্দ দাবী করিতে লাগিলে, বার্তা অদেখা রাখিয়া কাটিয়া পড়িলাম।
কিছু পরে আবার আসিয়া দেখিলাম, বালিকা খোমাবই থেকে অধমরেই কাটিয়া দিয়াছে। অনুরোধের ঢেঁকি না গিলিবার খুশীতে নীচে নামিয়া দুটাকার চর্বণযোগ্য চোষ্যবস্তু (চুইংগাম) কিনিয়া খাইলাম। মুড়ি কিনিতে চাহিয়াছিলাম, কিন্তু ধারে কাছে মুড়ি বিক্রেতা না পাওয়ায় উহা আর আজি খাওয়া হইলো না।
পুনশ্চঃ
১) এক বন্ধু অনুরোধ অনুযোগ করেছিল, খোমাবইয়ে হালকা পাতলা নয় বরং কঠিন-জীবনমুখী-বাস্তবসম্মত এবং মজার কিছু লিখতে। খোমাবইয়ে জীবন পাঠ নিয়ে তো তেমন কিছু পাই নি। সেজন্য যেটাতে মজা পেয়েছি তাই দিলাম কঠিন খাস্তা গুরুচণ্ডালী ভাষায়। (দৌড় যে অদ্দুরই) ;)
২) ভালো লাগলে এমনিতেই লাইক দেই। লাইক নিয়া বাড়িও করবো না - কব্বরেও যাব না। তাই আঁতকা অনুরোধের আগে ভেবে দেখাবেন আপনার ঢেঁকিখানা গেলার মতো কি না। নতুবা এই অকম্মার ঢেঁকিকে লাইক দেন বলে আতংকে ফেলে দেবেন না। (এইটা বিশেষ শ্রেণীর জন্য; ওই যে আছে না?! লাইক মি - লাইকু জাতীয়) ;)
মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যে বুঝিলাম, বালিকা একটি পছন্দ (লাইক) চাহিতেছে।
কিন্তু পছন্দ (লাইক) তো আর ব্যাংকনোটের মতন নয় যে লিখা থাকিবে - চাহিবামাত্র বালিকাকে দিতে বাধ্য থাকিবো। অতএব কথা ঘুরাইলাম। কহিলাম, চিত্র ভালোই হইয়াছে। কেবল চিত্রগ্রহণে বিচিত্রতা নাই! বালিকা শুনিয়া আর কিছু কহিল না। ভাবিলাম, বাঁচিয়াছি।
কিন্তু কিসের কি?! কিছুক্ষণ পর বালিকা নতুন এক খোমাচিত্র আরও বিচিত্র ভঙ্গিতে ধারণ করিয়া তাহা কিরূপ হইয়াছে জানিতে চাহিলো। মনে মনে প্রমাদ গুনিলাম। প্রকট সংকটেই কট খাইয়াছি।
এদিকে বালিকা তো নাছোড়, খোমাচিত্র কিরূপ হইয়াছে - আর কিরূপে তুলিবে - কোন কোণা দিয়া তুলিলে আরও উত্তম দেখাইবে ইত্যাদি নানাবিধ মিষ্ট জিজ্ঞাসায় অধমকে অতিষ্ঠ করিয়া তুলিয়াছে।
বালিকা যাহা বলে তাহাতেই হু হ্যাঁ করিয়া দিব্যি সারিয়া যাইতেছিলাম বলিয়াই কিনা জানি না, বালিকা এবারে চক্ষুর মাথা খাইয়া তাহার খোমাচিত্রে পছন্দ চাহিয়া বসিলো। এতক্ষণ হু হ্যাঁ করিতেছিলাম, এইবারে তাহার সহিত আমতা আমতা লাগাইলাম। তদুপরি বালিকার কুনু মায়া দয়া নাই, তাহার এক্কখানা পছন্দ চাইই চাই।
এইবারে মোক্ষম চাল চালিলাম। কহিলাম চিত্র সুন্দর, চিত্রের বিষয়বস্তুও সুন্দর। তবে কিনা চিত্রের গ্রহণযন্ত্র (ক্যামেরা) উত্তম নহে। তাই চিত্র পছন্দযোগ্য হয় নি। কিন্তু এই বয়ানেও বালিকার মন গলিল না, বালিকা তাহার পছন্দ আদায় করিতে দৃঢ়সংকল্প। সে পুনঃপুনঃ পছন্দ দাবী করিতে লাগিলে, বার্তা অদেখা রাখিয়া কাটিয়া পড়িলাম।
কিছু পরে আবার আসিয়া দেখিলাম, বালিকা খোমাবই থেকে অধমরেই কাটিয়া দিয়াছে। অনুরোধের ঢেঁকি না গিলিবার খুশীতে নীচে নামিয়া দুটাকার চর্বণযোগ্য চোষ্যবস্তু (চুইংগাম) কিনিয়া খাইলাম। মুড়ি কিনিতে চাহিয়াছিলাম, কিন্তু ধারে কাছে মুড়ি বিক্রেতা না পাওয়ায় উহা আর আজি খাওয়া হইলো না।
পুনশ্চঃ
১) এক বন্ধু অনুরোধ অনুযোগ করেছিল, খোমাবইয়ে হালকা পাতলা নয় বরং কঠিন-জীবনমুখী-বাস্তবসম্মত এবং মজার কিছু লিখতে। খোমাবইয়ে জীবন পাঠ নিয়ে তো তেমন কিছু পাই নি। সেজন্য যেটাতে মজা পেয়েছি তাই দিলাম কঠিন খাস্তা গুরুচণ্ডালী ভাষায়। (দৌড় যে অদ্দুরই) ;)
২) ভালো লাগলে এমনিতেই লাইক দেই। লাইক নিয়া বাড়িও করবো না - কব্বরেও যাব না। তাই আঁতকা অনুরোধের আগে ভেবে দেখাবেন আপনার ঢেঁকিখানা গেলার মতো কি না। নতুবা এই অকম্মার ঢেঁকিকে লাইক দেন বলে আতংকে ফেলে দেবেন না। (এইটা বিশেষ শ্রেণীর জন্য; ওই যে আছে না?! লাইক মি - লাইকু জাতীয়) ;)
Wednesday, June 25, 2014
শাস্তি
রহমান সাহেবের বয়স হয়েছে। এখন আর গায়ে আগের মতো তেমন জোর নেই। তবে মাথায় কূটবুদ্ধির মাশাল্লাহ কমতি নেই, বরং ম্যালাদিনের অভিজ্ঞতায় তা আরও ঋদ্ধ হয়েছে। যৌবনের আকাম কুকামগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো রক্তচাপ বেড়ে যায় রহমান সাহেবের। কি সব দিন ছিল সেগুলো.. মাঝে মাঝে ওসব ভেবে পুলকিত হন তিনি। নেহায়েত বয়েস হয়ে গেছে বলে আফসোস যে হয় না, তা নয়। তবে এখনকার কাজগুলো হয় নিখাদ বুদ্ধির.. কাঁচাবয়সের কাঁচাকাজ নয়। এই ভেবে তৃপ্ত থাকেন তিনি।
একমাত্র ছেলে নিজাম বিদেশ থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে ফিরে এসেছে বাবাকে দেখাশোনা করার জন্য। ছেলের বউ আর ছোট্ট নাতিকে নিয়ে বিপত্নীক রহমান সাহেবের সুখের সংসার। এর মধ্যে একদিন নিজাম থমথমে মুখে অবেলায় ফিরে আসে কর্মস্থল থেকে। কি এক কাগজ হাতে বাবার সামনে গিয়ে জানতে চায়, মতির মা কে? কি তার মেয়ের বৃত্তান্ত? মতির আদ্যোপান্ত জানার আগ্রহ নিজামের। রহমান সাহেবের রক্তচাপ বেড়ে যায়, তিনি নিরুত্তর থাকেন। অসুস্থতার ভান করে এড়িয়ে যেতে চান নিজামকে। কিন্তু নিজাম হাল ছাড়ে না, সে উত্তর খুঁজতে থাকে।
"মতির মা" নাম শুনেই রহমান সাহেবের মনে পড়ে যায় অনেক বছর আগের কথা। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন, একটা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তার বিপুল প্রতাপ। মতি ছিল সে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। সাধারণ ছাত্রদের অধিকার চাইবার অপরাধে(!) তিনি মতিকে খতম করার নির্দেশ দেন। আর তার সাথে খুনের চাক্ষুষ সাক্ষী আর উপরি পাওনা হিসেবে ভোগে যায় মতির ছোটবোন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় মেয়েটিকে। বিধবা মতির মা বাড়ীর পাশে ছোট্ট একটা মুরগীর খামার করে সংসার চালাতেন। চরম আক্রোশে সেটিও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সব হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিল মতির মা। পুরো বিষয়টাই রহমান সাহেব টাকা আর রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। নিজেদের করা হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন আর অগ্নিসংযোগকে বানিয়ে ফেলেছিলেন সাধারণ হানাহানির মামলা। আর এই চরম অপরাধগুলোকে তিনি বলেছিলেন মতিদের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল। ঘোষণা দিয়েছিলেন, অচিরেই চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করে ব্লা ব্লা ব্লা... ব্লা ব্লা ব্লা...
হালে সেই অপরাধের কিছু প্রমাণ কিভাবে কিভাবে যেন বেরিয়ে এসেছে। নিজাম সেগুলোরই কিছু জানতে পেরেছে। কিছু সচেতন মানুষও জানতে পারে এই অন্যায়ের কথা, অতঃপর শুরু হল মামলা। রহমান সাহেব সুতো টানলেন। মামলা ঝুলে গেল। তবে মানুষ আর আগের মত দমে গেল না। কিছু মানুষ জেগে উঠলো, প্রতিবাদ করলো। গিয়ে দাঁড়ালো সব হারানো মতির মার পাশে। রহমান সাহেবের শত প্যাঁচেও সেটা দমলো না। এভাবে না পেরে রহমান সাহেব মোক্ষম চাল চাললেন। নিজের শয়তানি বুদ্ধির সবটুকু আর বিপুল অর্থ খরচ করে তিনি মামলা ঝুলিয়ে দিলেন অনির্দিষ্টকালের জন্য।
নিজাম গোছগাছ করছে, সে চলে যাবে দেশ ছেড়ে চিরতরে। নিজামের স্ত্রী তার বাবার বাড়ীতে বিদায় নিতে গেছে, নিজাম তাকে সেখান থেকেই তুলে নেবে বিমান বন্দরের পথে। বের হবার আগে পথ আগলে দাঁড়ালেন রহমান সাহেব, তার রক্তচাপ বেড়ে গেল। তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন, নিজামকে তার পাশে থাকতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু নিজাম শুনলো না, সে এভাবেই শাস্তি দেবে তার আপাদমস্তক অপরাধী বাবাকে। ফাঁসি তো তার এখতিয়ারে নেই, তাই সে দেবেঃ পরিবার-পরিজনহীন যাবজ্জীবন।
কৈফিয়তঃ এমনিতেই আবর্জনা জাতীয় গল্প লিখি। কিন্তু তারপরেও এই লেখাটা কেন জানি আরও বেশি আবর্জনাময় হইছে। এ পর্যন্ত এতোটা আবর্জনাময় কিছু আর লিখি নাই। জীবিত বা মৃত নির্বিশেষে, বিশেষত মতিউর রহমান নিজামী কিংবা তাহার রক্তচাপের সাথে এই গল্পের কোথাও কোন সম্পর্ক নেই। যদি এই আবর্জনার ভেতরে কেউ মতিউর রহমান নিজামী অথবা তাহার রক্তচাপ সম্পর্কিত কিছু খুঁজে পায় তবে সেইটা একান্তই কাকতালীয় বিষয় আশয়। এতে এই আবর্জনার মালিকের কোথাও কোন প্রকার কৃতিত্ব নাই।
কৈফিয়তটি শেষ হলো।।
একমাত্র ছেলে নিজাম বিদেশ থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে ফিরে এসেছে বাবাকে দেখাশোনা করার জন্য। ছেলের বউ আর ছোট্ট নাতিকে নিয়ে বিপত্নীক রহমান সাহেবের সুখের সংসার। এর মধ্যে একদিন নিজাম থমথমে মুখে অবেলায় ফিরে আসে কর্মস্থল থেকে। কি এক কাগজ হাতে বাবার সামনে গিয়ে জানতে চায়, মতির মা কে? কি তার মেয়ের বৃত্তান্ত? মতির আদ্যোপান্ত জানার আগ্রহ নিজামের। রহমান সাহেবের রক্তচাপ বেড়ে যায়, তিনি নিরুত্তর থাকেন। অসুস্থতার ভান করে এড়িয়ে যেতে চান নিজামকে। কিন্তু নিজাম হাল ছাড়ে না, সে উত্তর খুঁজতে থাকে।
"মতির মা" নাম শুনেই রহমান সাহেবের মনে পড়ে যায় অনেক বছর আগের কথা। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন, একটা ছাত্র সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তার বিপুল প্রতাপ। মতি ছিল সে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। সাধারণ ছাত্রদের অধিকার চাইবার অপরাধে(!) তিনি মতিকে খতম করার নির্দেশ দেন। আর তার সাথে খুনের চাক্ষুষ সাক্ষী আর উপরি পাওনা হিসেবে ভোগে যায় মতির ছোটবোন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় মেয়েটিকে। বিধবা মতির মা বাড়ীর পাশে ছোট্ট একটা মুরগীর খামার করে সংসার চালাতেন। চরম আক্রোশে সেটিও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সব হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিল মতির মা। পুরো বিষয়টাই রহমান সাহেব টাকা আর রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। নিজেদের করা হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন আর অগ্নিসংযোগকে বানিয়ে ফেলেছিলেন সাধারণ হানাহানির মামলা। আর এই চরম অপরাধগুলোকে তিনি বলেছিলেন মতিদের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল। ঘোষণা দিয়েছিলেন, অচিরেই চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করে ব্লা ব্লা ব্লা... ব্লা ব্লা ব্লা...
হালে সেই অপরাধের কিছু প্রমাণ কিভাবে কিভাবে যেন বেরিয়ে এসেছে। নিজাম সেগুলোরই কিছু জানতে পেরেছে। কিছু সচেতন মানুষও জানতে পারে এই অন্যায়ের কথা, অতঃপর শুরু হল মামলা। রহমান সাহেব সুতো টানলেন। মামলা ঝুলে গেল। তবে মানুষ আর আগের মত দমে গেল না। কিছু মানুষ জেগে উঠলো, প্রতিবাদ করলো। গিয়ে দাঁড়ালো সব হারানো মতির মার পাশে। রহমান সাহেবের শত প্যাঁচেও সেটা দমলো না। এভাবে না পেরে রহমান সাহেব মোক্ষম চাল চাললেন। নিজের শয়তানি বুদ্ধির সবটুকু আর বিপুল অর্থ খরচ করে তিনি মামলা ঝুলিয়ে দিলেন অনির্দিষ্টকালের জন্য।
নিজাম গোছগাছ করছে, সে চলে যাবে দেশ ছেড়ে চিরতরে। নিজামের স্ত্রী তার বাবার বাড়ীতে বিদায় নিতে গেছে, নিজাম তাকে সেখান থেকেই তুলে নেবে বিমান বন্দরের পথে। বের হবার আগে পথ আগলে দাঁড়ালেন রহমান সাহেব, তার রক্তচাপ বেড়ে গেল। তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন, নিজামকে তার পাশে থাকতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু নিজাম শুনলো না, সে এভাবেই শাস্তি দেবে তার আপাদমস্তক অপরাধী বাবাকে। ফাঁসি তো তার এখতিয়ারে নেই, তাই সে দেবেঃ পরিবার-পরিজনহীন যাবজ্জীবন।
কৈফিয়তঃ এমনিতেই আবর্জনা জাতীয় গল্প লিখি। কিন্তু তারপরেও এই লেখাটা কেন জানি আরও বেশি আবর্জনাময় হইছে। এ পর্যন্ত এতোটা আবর্জনাময় কিছু আর লিখি নাই। জীবিত বা মৃত নির্বিশেষে, বিশেষত মতিউর রহমান নিজামী কিংবা তাহার রক্তচাপের সাথে এই গল্পের কোথাও কোন সম্পর্ক নেই। যদি এই আবর্জনার ভেতরে কেউ মতিউর রহমান নিজামী অথবা তাহার রক্তচাপ সম্পর্কিত কিছু খুঁজে পায় তবে সেইটা একান্তই কাকতালীয় বিষয় আশয়। এতে এই আবর্জনার মালিকের কোথাও কোন প্রকার কৃতিত্ব নাই।
কৈফিয়তটি শেষ হলো।।
Saturday, June 7, 2014
আরও বড় বলদ
বন্ধু জার্সির ব্যবসায় নামছে। হরেক রকম জার্সি তার কাছে...
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, জার্মানি বাকরখানি (ক্লাব টাব গুলি) আরও কত কি!!
একেকটার একেক রকম দাম। ৭০০ টাকা থেকে শুরু। কাপড় ভালো, সেলাই ভালো।
কিন্তু অধমের মন ভালো না। অধম খুঁজছিলাম এই হতচ্ছাড়া বাংলাদেশের জার্সি।
ভাবছিলাম, এইসব তো বিশ্বকাপ ফুরাইলে নটে গাছটি মুড়ানোর মতো শেষ।
মাগার দেশেরটা হইলে যখন তখন মন চাইলে পইড়া মাঞ্জা দিয়া ঘুরা যাবে।
চরম মধ্যবিত্ত মানসিকতা যারে বলে, আর কি!
বন্ধু মেসির হোসিয়ারি দেখায়, নেইমারের ছারখার সেলের হিসাব বুঝায়।
ক্লাব ফুটবলের কথা আসায় ফস কইরা মুখ ফসকায় জিগায় ফেললাম,
"মোনেম মুন্নার কোনো জার্সি আছে রে?!"
বন্ধু মুখ তুইলা এলিয়েন দেখতেছে এমন দৃষ্টিতে তাকাইয়া কইলো,
"উফফ নো! মোনেম মুন্না!! সেইটা আবার কে?!"
মৃদু হাইসা বললাম,
"ওই আছিলো একজন ফুটবলার,
যার খেলা দেইখা মুগ্ধ হইয়া কলকাতার মানুষ পর্যন্ত তারে পূজা দিত।
এই ধানমণ্ডি আট নাম্বার সেতুটা তার নামে 'মোনেম মুন্না সেতু'।
এই যেইটার উপর দিয়া রোজ যাই আসি.."
ক্রেতার ভিড় বাড়তেছে দেইখা
বেচাকেনায় ব্যস্ত বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়া আসার সময় বললাম,
"পারলে বাংলাদেশের দুইটা জার্সি রাখিস - আবার আইসা নিয়া যামু নে.."
হাত মিলাইয়া চইলা আসতেছি।
বন্ধু উলটো ঘুরে মেসির জার্সি বেচতে বেচতে বিড়বিড় করে বলছে "বলদ"
দুজনেই মাথা ঘুরিয়ে আবার তাকালাম।
কিছুই শুনি নাই এমন ভান করে হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে চলে এলাম..
আসলেই তো!
ভালবাসাটাই তো নিখাদ বলদামি।
আর দেশরে ভালোবাসা তো আরও বড় বলদামি!!
হইলাম বলদ; আরও বড় বলদ।।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, জার্মানি বাকরখানি (ক্লাব টাব গুলি) আরও কত কি!!
একেকটার একেক রকম দাম। ৭০০ টাকা থেকে শুরু। কাপড় ভালো, সেলাই ভালো।
কিন্তু অধমের মন ভালো না। অধম খুঁজছিলাম এই হতচ্ছাড়া বাংলাদেশের জার্সি।
ভাবছিলাম, এইসব তো বিশ্বকাপ ফুরাইলে নটে গাছটি মুড়ানোর মতো শেষ।
মাগার দেশেরটা হইলে যখন তখন মন চাইলে পইড়া মাঞ্জা দিয়া ঘুরা যাবে।
চরম মধ্যবিত্ত মানসিকতা যারে বলে, আর কি!
বন্ধু মেসির হোসিয়ারি দেখায়, নেইমারের ছারখার সেলের হিসাব বুঝায়।
ক্লাব ফুটবলের কথা আসায় ফস কইরা মুখ ফসকায় জিগায় ফেললাম,
"মোনেম মুন্নার কোনো জার্সি আছে রে?!"
বন্ধু মুখ তুইলা এলিয়েন দেখতেছে এমন দৃষ্টিতে তাকাইয়া কইলো,
"উফফ নো! মোনেম মুন্না!! সেইটা আবার কে?!"
মৃদু হাইসা বললাম,
"ওই আছিলো একজন ফুটবলার,
যার খেলা দেইখা মুগ্ধ হইয়া কলকাতার মানুষ পর্যন্ত তারে পূজা দিত।
এই ধানমণ্ডি আট নাম্বার সেতুটা তার নামে 'মোনেম মুন্না সেতু'।
এই যেইটার উপর দিয়া রোজ যাই আসি.."
ক্রেতার ভিড় বাড়তেছে দেইখা
বেচাকেনায় ব্যস্ত বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়া আসার সময় বললাম,
"পারলে বাংলাদেশের দুইটা জার্সি রাখিস - আবার আইসা নিয়া যামু নে.."
হাত মিলাইয়া চইলা আসতেছি।
বন্ধু উলটো ঘুরে মেসির জার্সি বেচতে বেচতে বিড়বিড় করে বলছে "বলদ"
দুজনেই মাথা ঘুরিয়ে আবার তাকালাম।
কিছুই শুনি নাই এমন ভান করে হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে চলে এলাম..
আসলেই তো!
ভালবাসাটাই তো নিখাদ বলদামি।
আর দেশরে ভালোবাসা তো আরও বড় বলদামি!!
হইলাম বলদ; আরও বড় বলদ।।
Tuesday, May 13, 2014
শকিং পিচ্চি
বাসায় পিচ্চি খালাতো ভাইটি বেড়াতে এসেছে।
একটু আগে কোত্থেকে হঠাৎ আদুল গায়ে ছুটে এসে বলল,
"ভাইয়া, দেখো দেখো! আমি টেংটু!! হি হি হি.. খি খি খি... খু খু খু...."
কোনমতে তার দুকূল ছাপানো হাসি থামলে জিজ্ঞেস করি,
"কিন্তু ভাইয়া তুমি তো প্যান্ট পড়ে আছ, তুমি তো নেংটু নেই!!"
সে চরম বিরক্ত একটা মুখভঙ্গি নিয়ে বলল, "নেংটু না তো! টেংটু টেংটু!!"
অসহায়ের মতো বললাম, "বুঝি নাই.. ভাইয়া!!"
সে বলে, "উফফ.. তুমি কি বোকা!!"
খোকার মুখে বোকা গাল শুনে একটু সাকা সাকা অনুভূতি হচ্ছিল।
সেই মুহুর্তে ধরাস করে পরনের প্যান্টটাও খুলে পিচ্চি সাকা থেকে পুরাই স্পীকার বানায় দিলো।
খুব বিরক্তমুখে পিচ্চি বলল,
"প্যান্ট না থাকলে নেংটু আর শার্ট না থাকলে টেংটু! তুমি তো কিসসু জানো না!!"
প্যান্টটা এবার একটানে তুলে পিচ্চি বলে,
"এতক্ষণ নেংটু ছিলাম, এখন আবার টেংটু হইছি! বুঝছো?!"
অবাক হইয়া মাথা নাড়াইয়া হ্যাঁ বললাম!
ভাবতেছিলাম নার্সারির পুলাপাইন এত বিটলা হইছে ক্যামনে?!
এরপরের কথায় তো ডাইরেক্ট মার্ডার হইয়া গেলাম!
পিচ্চি গম্ভীর গলায় বয়ান দিল,
"ইসস.. তুমি তো দেখি কিসসু জানো না!! এজন্যই তো তোমার বিয়া হয় না!!!"
এই বইলা যেমনে ফুড়ুত করে আসছিল, ঠিক তেমনে ফুড়ুত করে চলে গেল।
প্রথমে সাকা, এরপর স্পীকার আর সবশেষে মার্ডার হইয়া পইড়া রইলাম - এই নিঠুর দুনিয়ায়..
শেষমেশ, নার্সারির পুলার হাতে মার্ডার হইলাম..
এই আফসোস করতে করতে নিজের কাজে মন দিলাম!
একটু আগে কোত্থেকে হঠাৎ আদুল গায়ে ছুটে এসে বলল,
"ভাইয়া, দেখো দেখো! আমি টেংটু!! হি হি হি.. খি খি খি... খু খু খু...."
কোনমতে তার দুকূল ছাপানো হাসি থামলে জিজ্ঞেস করি,
"কিন্তু ভাইয়া তুমি তো প্যান্ট পড়ে আছ, তুমি তো নেংটু নেই!!"
সে চরম বিরক্ত একটা মুখভঙ্গি নিয়ে বলল, "নেংটু না তো! টেংটু টেংটু!!"
অসহায়ের মতো বললাম, "বুঝি নাই.. ভাইয়া!!"
সে বলে, "উফফ.. তুমি কি বোকা!!"
খোকার মুখে বোকা গাল শুনে একটু সাকা সাকা অনুভূতি হচ্ছিল।
সেই মুহুর্তে ধরাস করে পরনের প্যান্টটাও খুলে পিচ্চি সাকা থেকে পুরাই স্পীকার বানায় দিলো।
খুব বিরক্তমুখে পিচ্চি বলল,
"প্যান্ট না থাকলে নেংটু আর শার্ট না থাকলে টেংটু! তুমি তো কিসসু জানো না!!"
প্যান্টটা এবার একটানে তুলে পিচ্চি বলে,
"এতক্ষণ নেংটু ছিলাম, এখন আবার টেংটু হইছি! বুঝছো?!"
অবাক হইয়া মাথা নাড়াইয়া হ্যাঁ বললাম!
ভাবতেছিলাম নার্সারির পুলাপাইন এত বিটলা হইছে ক্যামনে?!
এরপরের কথায় তো ডাইরেক্ট মার্ডার হইয়া গেলাম!
পিচ্চি গম্ভীর গলায় বয়ান দিল,
"ইসস.. তুমি তো দেখি কিসসু জানো না!! এজন্যই তো তোমার বিয়া হয় না!!!"
এই বইলা যেমনে ফুড়ুত করে আসছিল, ঠিক তেমনে ফুড়ুত করে চলে গেল।
প্রথমে সাকা, এরপর স্পীকার আর সবশেষে মার্ডার হইয়া পইড়া রইলাম - এই নিঠুর দুনিয়ায়..
শেষমেশ, নার্সারির পুলার হাতে মার্ডার হইলাম..
এই আফসোস করতে করতে নিজের কাজে মন দিলাম!
Friday, March 7, 2014
গল্পটা সত্যি না হলেও পারতো
৭ই মার্চ, ২০১৪
পড়ন্ত দুপুরে হাকিম চত্বরে পা ঝুলিয়ে বসে গুনগুন করছিল ছেলেটি।
দূর থেকে দুই বন্ধুকে এগিয়ে আসতে দেখে স্মিত হেসে তাদের স্বাগত জানায় সে।
এক বন্ধুর হাতে সুন্দর প্যাকেটে সদ্য কেনা একটি বই।
বইটা হাতে নিয়ে উলটে পালটে দেখে ছেলেটি পকেটে হাত দেয়।
পকেট হাতড়ে ছেলেটির ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
সে বন্ধুদের বলে,
"চল! একটা মজার খেলা খেলি.. সাথে থাক, আর যা বলি - সায় দিয়ে যা..."
সদা ফুর্তিবাজ ইয়ারবন্ধুর এ আহবানে না করার কোন কারণ খুঁজে পেল না বাকি দু বন্ধু।
সামনে দিয়েই যাচ্ছিল প্রায় সমবয়সী দুজন পথচারী।
তাদের কাছে গিয়ে ছেলেটি রেডিও আরজে'দের মতো করে বলল,
"ভাই, আমরা একটা স্ট্রীট গেম খেলছি।
গেম'টা শুরু করার আগে সেটা কেমন পাবলিক রেসপন্স পাবে,
তার একটা পরীক্ষামূলক জরিপ করা হচ্ছে আজ। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে জরিপ,
তাই আজ আপনাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক খুব সিম্পল একটা প্রশ্ন করবো।
সঠিক উত্তর দিতে পারলে আপনি উপহার হিসেবে পাবেন এই বইটি।"
বলে ছেলেটি বন্ধুর সদ্য কেনা বইটি তাদের দেখায়।
"আর সঠিক উত্তর না দিতে পারলেও সমস্যা নেই,
এই জরিপে দেয়া কোন উত্তর আমরা সম্প্রচার করছি না।
সো গাইজ! আর ইউ রেডি?"
এ কথায় দু পথচারীই হেসে রাজি হয়।
এবার ছেলেটি প্রশ্ন করে,
"মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের যে সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ, তাদের নামগুলো কি কি?"
পথচারী দুজনেই একে অপরের দিকে তাকায়,
কিন্তু একটার বেশি নাম কেউই বলতে পারে না।
ছেলেটি এবারে পথচারী দু'জনকে ধন্যবাদ দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
সমবয়সী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষকে সে এই একই প্রশ্ন করে।
পড়ন্ত দুপুর থেকে বিকেল হয়ে যায়,
বিকেল গড়ায় সাঁঝে!
কিন্তু কেউ জানে না সে নাম যে হায়,
এতো মানুষের মাঝে!!
সন্ধ্যাবেলায়,
দৃশ্যপটে আবারও সেই হাকিম চত্বর।
এবারে তিন বন্ধুই পা ঝুলিয়ে বসে আছে।
ঝিরিঝিরি বাতাস সাথে আশেপাশের নানা কোলাহলের মধ্যেও
তিনজনের মাঝে অস্বস্তিকর নীরবতা বিদ্যমান।
অনুচ্চস্বরে সেই ছেলেটি আনমনে বলে উঠলো,
"হে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মুন্সি আব্দুর রউফ, নূর মোহাম্মদ শেখ, হামিদুর রহমান! ক্ষমা করে দিয়েন। আপনাদের নামটুকু পর্যন্ত ভুলে যাবার জন্যে..."
বন্ধুদের দিকে ফিরে বলল,
"বইটা দেখেই চিন্তাটা মাথায় এলো, ভাবলাম খেলি একদান।
বইয়ের দামটা পকেটে আছে দেখে মাথার চিন্তাপোকাটা
এই খেলার ভাবনাটাকে আরও উসকে দিল..
পোকাটাকে মেরে ফেলবো ভাবছি..
বিবেকের কামড় খেতে আর ভালো লাগে না, বড্ড জ্বালা!"
এই বলে হাতের বইটা বন্ধুর দিকে এগিয়ে দিলো, "নিয়ে যা..."
বইটা ফিরিয়ে দিয়ে বন্ধুটি বলল,
"খেলায় তিনজনই ছিলাম, শর্ত মেনেই ছিলাম। বইটা তুইই রাখ।
আমরাও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে চারজনের বেশি নাম বলতে পারতাম না।
তুই পেরেছিস.. তুই জিতেছিস।"
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেটি বলে উঠলো,
"এভাবে জিততে চাই নি রে।
এ খেলায় একা জেতা মানে হেরে যাওয়া - সবাইকে নিয়ে হেরে যাওয়া।
জিতি নি, বরং হেরে গেছি বিবেকের কাছে..."
এলোমেলো পায়ে, টলোমলো চোখে ছেলেটি এবারে পা বাড়ায় পথে।
পড়ন্ত দুপুরে হাকিম চত্বরে পা ঝুলিয়ে বসে গুনগুন করছিল ছেলেটি।
দূর থেকে দুই বন্ধুকে এগিয়ে আসতে দেখে স্মিত হেসে তাদের স্বাগত জানায় সে।
এক বন্ধুর হাতে সুন্দর প্যাকেটে সদ্য কেনা একটি বই।
বইটা হাতে নিয়ে উলটে পালটে দেখে ছেলেটি পকেটে হাত দেয়।
পকেট হাতড়ে ছেলেটির ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
সে বন্ধুদের বলে,
"চল! একটা মজার খেলা খেলি.. সাথে থাক, আর যা বলি - সায় দিয়ে যা..."
সদা ফুর্তিবাজ ইয়ারবন্ধুর এ আহবানে না করার কোন কারণ খুঁজে পেল না বাকি দু বন্ধু।
সামনে দিয়েই যাচ্ছিল প্রায় সমবয়সী দুজন পথচারী।
তাদের কাছে গিয়ে ছেলেটি রেডিও আরজে'দের মতো করে বলল,
"ভাই, আমরা একটা স্ট্রীট গেম খেলছি।
গেম'টা শুরু করার আগে সেটা কেমন পাবলিক রেসপন্স পাবে,
তার একটা পরীক্ষামূলক জরিপ করা হচ্ছে আজ। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে জরিপ,
তাই আজ আপনাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক খুব সিম্পল একটা প্রশ্ন করবো।
সঠিক উত্তর দিতে পারলে আপনি উপহার হিসেবে পাবেন এই বইটি।"
বলে ছেলেটি বন্ধুর সদ্য কেনা বইটি তাদের দেখায়।
"আর সঠিক উত্তর না দিতে পারলেও সমস্যা নেই,
এই জরিপে দেয়া কোন উত্তর আমরা সম্প্রচার করছি না।
সো গাইজ! আর ইউ রেডি?"
এ কথায় দু পথচারীই হেসে রাজি হয়।
এবার ছেলেটি প্রশ্ন করে,
"মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের যে সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ, তাদের নামগুলো কি কি?"
পথচারী দুজনেই একে অপরের দিকে তাকায়,
কিন্তু একটার বেশি নাম কেউই বলতে পারে না।
ছেলেটি এবারে পথচারী দু'জনকে ধন্যবাদ দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
সমবয়সী থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষকে সে এই একই প্রশ্ন করে।
পড়ন্ত দুপুর থেকে বিকেল হয়ে যায়,
বিকেল গড়ায় সাঁঝে!
কিন্তু কেউ জানে না সে নাম যে হায়,
এতো মানুষের মাঝে!!
সন্ধ্যাবেলায়,
দৃশ্যপটে আবারও সেই হাকিম চত্বর।
এবারে তিন বন্ধুই পা ঝুলিয়ে বসে আছে।
ঝিরিঝিরি বাতাস সাথে আশেপাশের নানা কোলাহলের মধ্যেও
তিনজনের মাঝে অস্বস্তিকর নীরবতা বিদ্যমান।
অনুচ্চস্বরে সেই ছেলেটি আনমনে বলে উঠলো,
"হে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মুন্সি আব্দুর রউফ, নূর মোহাম্মদ শেখ, হামিদুর রহমান! ক্ষমা করে দিয়েন। আপনাদের নামটুকু পর্যন্ত ভুলে যাবার জন্যে..."
বন্ধুদের দিকে ফিরে বলল,
"বইটা দেখেই চিন্তাটা মাথায় এলো, ভাবলাম খেলি একদান।
বইয়ের দামটা পকেটে আছে দেখে মাথার চিন্তাপোকাটা
এই খেলার ভাবনাটাকে আরও উসকে দিল..
পোকাটাকে মেরে ফেলবো ভাবছি..
বিবেকের কামড় খেতে আর ভালো লাগে না, বড্ড জ্বালা!"
এই বলে হাতের বইটা বন্ধুর দিকে এগিয়ে দিলো, "নিয়ে যা..."
বইটা ফিরিয়ে দিয়ে বন্ধুটি বলল,
"খেলায় তিনজনই ছিলাম, শর্ত মেনেই ছিলাম। বইটা তুইই রাখ।
আমরাও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে চারজনের বেশি নাম বলতে পারতাম না।
তুই পেরেছিস.. তুই জিতেছিস।"
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেটি বলে উঠলো,
"এভাবে জিততে চাই নি রে।
এ খেলায় একা জেতা মানে হেরে যাওয়া - সবাইকে নিয়ে হেরে যাওয়া।
জিতি নি, বরং হেরে গেছি বিবেকের কাছে..."
এলোমেলো পায়ে, টলোমলো চোখে ছেলেটি এবারে পা বাড়ায় পথে।
Tuesday, October 22, 2013
কবির ভাই সমাচারঃ শুভ জন্মদিন পর্ব
অনেক সাধনার পর অসাধ্য সাধন হইলো।
প্রিয় কবির ভাই উনার জন্মদিনে পার্টি দিতে নিমরাজি হইলেন।
নিমরাজি হইবার কারণ অলক ভায়ের হুমকি!
অলক ভাইয়ের পরিচিত দুজন কিঞ্চিত ইয়ে(!)যুক্ত ছেলে আছে।
যারা কবির ভায়ের উপর একটু ইয়ে মানে ইয়ে(!)ভাবে আকৃষ্ট!!
পার্টি না দিলে তাদেরকে কবির ভায়ের বাসা চিনিয়ে দেয়া হবে
- এই হুমকিতে কাজ হলো।
যাইহোক, কবির ভায়ের বার্থডে গিফট হিসেবে দেয়া হলো
একটি "ডোরেমন" পুতুল (উনার ফেবারিট)
আর বহু আকাঙ্ক্ষিত একটি ফোন নাম্বার!
তো উনি বাসায় গিয়ে সেই নাম্বারে ফোন দিলেন।
বহু কাঙ্খিত সেই কল।
ওই প্রান্তে ফোন ধরলো। কথা শুরু হলো।
পরিচয় পর্ব শেষ হতে না হতেই শুরু হলো
এয়ারে পেয়ারতেলের বিখ্যাত নেটওয়ার্ক সমস্যা!
কথা কেটে কেটে আসছে - কেউ কারো কথা বুঝছে না।
কবির ভাই বলেন, "হ্যালো হ্যালো"
ওপ্রান্ত থেকেও বলে, "হ্যালো হ্যালো"
এক পর্যায়ে কবির ভাই বলা শুরু করলেন,
"হ্যালো 143, 143"
নেটওয়ার্ক সমস্যা কমে এলো, সূচনা হলো অন্য সমস্যার!
ওপাশ থেকে শুধায়,
"হ্যালো 143" মানে কি?!
উনি ব্যাখ্যা দেন,
"ওই যে মাইক্রোফোন টেস্ট করে না, ওমনি করলাম আর কি?"
বলেই সেই বিগলিত হাসি!
ওপ্রান্ত থেকে অবজেকশন আসলো, "ওটা তো 123 বলে, 143 না!"
আবার একখানা বিগলিত হাসি হেসে কবির ভাই বললেন,
"ওই একটু বদলে বললাম - বুঝেছেন তো!"
ওপ্রান্ত থেকে জানালো যে, বুঝে নি, তবে এই বদল ভালো লেগেছে!
কবির ভাই তো এবারে বিগলিত হতে হতে গলন্ত মোম!
তিনি ফোনে একটা পাখি, তিনটা পাখি আর চারটা পাখির
বিশ্লেষণ শুরু করতে গিয়ে ইতিহাস - পাতিহাস - দুর্বা ঘাস
সব কিছু নিয়ে লেকচার দেয়া শুরু করলেন!
কিন্তু বিপত্তি দেখা গেলো অন্য খানে।
এতো ব্যাখ্যার ভিড়ে আসল টপিকটাই হারিয়ে গেলো!
এক পর্যায়ে খুব সম্ভবত ওই প্রান্ত ঘুমিয়ে গেলো!
(এইটা কবির ভাই অবশ্য স্বীকার করেন নি)
এভাবেই শেষ হলো বুঝি একটি সম্ভাবনার! ;)
পরদিন কবির ভাই এসে ঘটনা বলে মন্তব্য করলেন,
"তেমন লাভ হলো না! গবেট গবেট! কিছুই জানে না - বোঝে না।"
আকাশ ভাই বলে,
"আপনেরে পরিচয় করায়া নাম্বার দিসি কথা বলতে আর আপনে দিসেন লেকচার!
ওই মিয়া আপনেরে কি ক্লাশ নিতে কইছি হের?! আপনে বলবেন কথা,
সেইটা না বইলা হুদাই প্যাচাইছেন আর আইয়্যা কইতেছেন গবেট গবেট!"
শুনে কবির ভাই মিটিমিটি হাসেন আর খুকুর খুকুর করে কাশেন।
আন্নু ভাই বললেন,
"আরে ভাই! আপনে হাসেন নাকি কাশেন?!
সিধা বইলা দেন তারে যে আপনি ভালবাসেন।
প্যাচপুচ বাদ দিয়া একটা পরিস্কার সিদ্ধান্তে আসেন,
এইটা তো আলাদিনের চেরাগ না যে ঘসেন শুধু ঘসেন!!" ;)
তাও কবির ভাই কাশেন, বলেন
"143 তো বলছি, এইটা সে না বুঝলে তো আমাকে ক্যামনে বুঝবে?!"
সুমিত ভাই বলে উঠলেন, "আপনি কি তারে এই টপিকে বুঝাইছেন?!"
উত্তর আসে, "এর আশেপাশেই তো বুঝাইছি!"
চিশ্চতি ভাই কনক্লুশন টানেন,
"বাদ দে! কবির ভয় পাইছে তাই প্যাচানি শুরু করছে।
এই লোক শুধরাবে না খালি প্যাচাবে। আর হুদাই আমাদের মুখ খরচ হবে।"
সবাই হতাশ। কবির ভাই তখনো জপে যাচ্ছেন,
"143 বোঝো না - আমাকে কি বুঝবে?!"
প্রিয় কবির ভাই উনার জন্মদিনে পার্টি দিতে নিমরাজি হইলেন।
নিমরাজি হইবার কারণ অলক ভায়ের হুমকি!
অলক ভাইয়ের পরিচিত দুজন কিঞ্চিত ইয়ে(!)যুক্ত ছেলে আছে।
যারা কবির ভায়ের উপর একটু ইয়ে মানে ইয়ে(!)ভাবে আকৃষ্ট!!
পার্টি না দিলে তাদেরকে কবির ভায়ের বাসা চিনিয়ে দেয়া হবে
- এই হুমকিতে কাজ হলো।
যাইহোক, কবির ভায়ের বার্থডে গিফট হিসেবে দেয়া হলো
একটি "ডোরেমন" পুতুল (উনার ফেবারিট)
আর বহু আকাঙ্ক্ষিত একটি ফোন নাম্বার!
তো উনি বাসায় গিয়ে সেই নাম্বারে ফোন দিলেন।
বহু কাঙ্খিত সেই কল।
ওই প্রান্তে ফোন ধরলো। কথা শুরু হলো।
পরিচয় পর্ব শেষ হতে না হতেই শুরু হলো
এয়ারে পেয়ারতেলের বিখ্যাত নেটওয়ার্ক সমস্যা!
কথা কেটে কেটে আসছে - কেউ কারো কথা বুঝছে না।
কবির ভাই বলেন, "হ্যালো হ্যালো"
ওপ্রান্ত থেকেও বলে, "হ্যালো হ্যালো"
এক পর্যায়ে কবির ভাই বলা শুরু করলেন,
"হ্যালো 143, 143"
নেটওয়ার্ক সমস্যা কমে এলো, সূচনা হলো অন্য সমস্যার!
ওপাশ থেকে শুধায়,
"হ্যালো 143" মানে কি?!
উনি ব্যাখ্যা দেন,
"ওই যে মাইক্রোফোন টেস্ট করে না, ওমনি করলাম আর কি?"
বলেই সেই বিগলিত হাসি!
ওপ্রান্ত থেকে অবজেকশন আসলো, "ওটা তো 123 বলে, 143 না!"
আবার একখানা বিগলিত হাসি হেসে কবির ভাই বললেন,
"ওই একটু বদলে বললাম - বুঝেছেন তো!"
ওপ্রান্ত থেকে জানালো যে, বুঝে নি, তবে এই বদল ভালো লেগেছে!
কবির ভাই তো এবারে বিগলিত হতে হতে গলন্ত মোম!
তিনি ফোনে একটা পাখি, তিনটা পাখি আর চারটা পাখির
বিশ্লেষণ শুরু করতে গিয়ে ইতিহাস - পাতিহাস - দুর্বা ঘাস
সব কিছু নিয়ে লেকচার দেয়া শুরু করলেন!
কিন্তু বিপত্তি দেখা গেলো অন্য খানে।
এতো ব্যাখ্যার ভিড়ে আসল টপিকটাই হারিয়ে গেলো!
এক পর্যায়ে খুব সম্ভবত ওই প্রান্ত ঘুমিয়ে গেলো!
(এইটা কবির ভাই অবশ্য স্বীকার করেন নি)
এভাবেই শেষ হলো বুঝি একটি সম্ভাবনার! ;)
পরদিন কবির ভাই এসে ঘটনা বলে মন্তব্য করলেন,
"তেমন লাভ হলো না! গবেট গবেট! কিছুই জানে না - বোঝে না।"
আকাশ ভাই বলে,
"আপনেরে পরিচয় করায়া নাম্বার দিসি কথা বলতে আর আপনে দিসেন লেকচার!
ওই মিয়া আপনেরে কি ক্লাশ নিতে কইছি হের?! আপনে বলবেন কথা,
সেইটা না বইলা হুদাই প্যাচাইছেন আর আইয়্যা কইতেছেন গবেট গবেট!"
শুনে কবির ভাই মিটিমিটি হাসেন আর খুকুর খুকুর করে কাশেন।
আন্নু ভাই বললেন,
"আরে ভাই! আপনে হাসেন নাকি কাশেন?!
সিধা বইলা দেন তারে যে আপনি ভালবাসেন।
প্যাচপুচ বাদ দিয়া একটা পরিস্কার সিদ্ধান্তে আসেন,
এইটা তো আলাদিনের চেরাগ না যে ঘসেন শুধু ঘসেন!!" ;)
তাও কবির ভাই কাশেন, বলেন
"143 তো বলছি, এইটা সে না বুঝলে তো আমাকে ক্যামনে বুঝবে?!"
সুমিত ভাই বলে উঠলেন, "আপনি কি তারে এই টপিকে বুঝাইছেন?!"
উত্তর আসে, "এর আশেপাশেই তো বুঝাইছি!"
চিশ্চতি ভাই কনক্লুশন টানেন,
"বাদ দে! কবির ভয় পাইছে তাই প্যাচানি শুরু করছে।
এই লোক শুধরাবে না খালি প্যাচাবে। আর হুদাই আমাদের মুখ খরচ হবে।"
সবাই হতাশ। কবির ভাই তখনো জপে যাচ্ছেন,
"143 বোঝো না - আমাকে কি বুঝবে?!"
Friday, October 18, 2013
কবির ভাই সমাচারঃ হন্টন টনটন পর্ব
হাঁটতে হাঁটতে ঠাস করে কবির ভাই বলে বসলেন, "এবছরই বিয়ে করবো..."
পুরো কাফেলা এক পলকের জন্যে থমকে হাসির দমকে ফেটে পড়লো।
আকাশ ভাই বললেন, "বছরের তো মাত্র দুমাস বাকি! ক্যামনে কি?!"
"এই মানে আগামী বছরের মধ্যেই আর কি!" খানিক বিব্রত কবির ভাই। পল্টি মাত্র শুরু।।
ওপাশ থেকে চিশতী ভাই বাজী ধরলেন, "কবির যদি আগামী চউদ্দ মাসের মধ্যেও বিয়ে করে তবে পার্টি দিবো, আর না করলে কবির পার্টি দেবে। - বুফে হবে, বুফে।।"
শুনেই কবির ভাই আঁতকে উঠলেন, "কিসের পার্টি?! আজব তো! বিয়া করলেও ছিলবি, আবার না করলেও ছিলবি! এসব কি?! কোনো পার্টি ফার্টি হবে না।" এই গেলো পল্টির অর্ধেক খানা।
সাথে সাথে চিশতী ভাই বলে, "দেখো দেখো, গণেশ উলটানো শুরু হয়ে গেছে। এরপর বলবে বিয়েই করবো না আর দোষ দেবে আমাদের..."
তৎক্ষণাৎ শুরু হলো পল্টির বাকি টুকু। কবির ভাই বললেন, "ঠিক বলেছিস!! বিয়ের মতো বিরাট শুভ একটা কাজের জন্য আজে বাজে বাজী লাগা ঠিক হবে না। বিয়ে পোস্টপোন্ড করা হউক।" কি সে যুক্তি!!!
আকাশ ভাই তো ক্ষেইপা ফায়ার! কয়, "বুইড়া খাটাশ! দাঁড়ি পাকা ধরছে তবু বিয়ার নাম হুনলে পিছায় - দাওয়াত দিতে হইবো বইলা! চিন্তা করছেন?!"
কবির ভাই আবার সেই বিগলিত হাসি দিয়ে বললেন, "ঠিক বলেছিস! আর জানিসই তো বউ হইতে বই উত্তম!"
বইয়ের পোকা কবির ভায়ের এহেন পল্টি দেখে সবাই হতবাক!
পিছন থেকে রিফাত বলে উঠলো, "আপনেরা খামোখাই এতো মুখ খরচ করলেন। আমি দেখেন শুরু থেইকাই চুপ আছিলাম! আহ্ কি ডায়লগ! বউ হইতে বই উত্তম - কি বলেন ভাইলোগ?!"
"হ, তুই ওরে আরও তাল দেস..." বইলাই আকাশ ভাই ঝাঁপায় পড়লো কিলের বস্তা নিয়া - এরপরের সম্মিলিত কিলাকিলি গুলি রিফাতের ওপর দিয়া গেলো। আর সিনিয়ার হওয়ায় কবির ভাইকে দিতে না পারা কিলগুলিও রিফাত কাউ মাউ করতে করতে খাইলো... ;)
#গল্প - বাস্তবের ফ্রেমে কল্পচিত্র আঁকার স্বল্প প্রয়াস!
পুরো কাফেলা এক পলকের জন্যে থমকে হাসির দমকে ফেটে পড়লো।
আকাশ ভাই বললেন, "বছরের তো মাত্র দুমাস বাকি! ক্যামনে কি?!"
"এই মানে আগামী বছরের মধ্যেই আর কি!" খানিক বিব্রত কবির ভাই। পল্টি মাত্র শুরু।।
ওপাশ থেকে চিশতী ভাই বাজী ধরলেন, "কবির যদি আগামী চউদ্দ মাসের মধ্যেও বিয়ে করে তবে পার্টি দিবো, আর না করলে কবির পার্টি দেবে। - বুফে হবে, বুফে।।"
শুনেই কবির ভাই আঁতকে উঠলেন, "কিসের পার্টি?! আজব তো! বিয়া করলেও ছিলবি, আবার না করলেও ছিলবি! এসব কি?! কোনো পার্টি ফার্টি হবে না।" এই গেলো পল্টির অর্ধেক খানা।
সাথে সাথে চিশতী ভাই বলে, "দেখো দেখো, গণেশ উলটানো শুরু হয়ে গেছে। এরপর বলবে বিয়েই করবো না আর দোষ দেবে আমাদের..."
তৎক্ষণাৎ শুরু হলো পল্টির বাকি টুকু। কবির ভাই বললেন, "ঠিক বলেছিস!! বিয়ের মতো বিরাট শুভ একটা কাজের জন্য আজে বাজে বাজী লাগা ঠিক হবে না। বিয়ে পোস্টপোন্ড করা হউক।" কি সে যুক্তি!!!
আকাশ ভাই তো ক্ষেইপা ফায়ার! কয়, "বুইড়া খাটাশ! দাঁড়ি পাকা ধরছে তবু বিয়ার নাম হুনলে পিছায় - দাওয়াত দিতে হইবো বইলা! চিন্তা করছেন?!"
কবির ভাই আবার সেই বিগলিত হাসি দিয়ে বললেন, "ঠিক বলেছিস! আর জানিসই তো বউ হইতে বই উত্তম!"
বইয়ের পোকা কবির ভায়ের এহেন পল্টি দেখে সবাই হতবাক!
পিছন থেকে রিফাত বলে উঠলো, "আপনেরা খামোখাই এতো মুখ খরচ করলেন। আমি দেখেন শুরু থেইকাই চুপ আছিলাম! আহ্ কি ডায়লগ! বউ হইতে বই উত্তম - কি বলেন ভাইলোগ?!"
"হ, তুই ওরে আরও তাল দেস..." বইলাই আকাশ ভাই ঝাঁপায় পড়লো কিলের বস্তা নিয়া - এরপরের সম্মিলিত কিলাকিলি গুলি রিফাতের ওপর দিয়া গেলো। আর সিনিয়ার হওয়ায় কবির ভাইকে দিতে না পারা কিলগুলিও রিফাত কাউ মাউ করতে করতে খাইলো... ;)
#গল্প - বাস্তবের ফ্রেমে কল্পচিত্র আঁকার স্বল্প প্রয়াস!
Monday, October 14, 2013
হাঁটুরে গপ্প
দুই বড়ভাই গরু কিনতে হাটে গেছেন।
প্রাথমিকভাবে উনারা ষাঁড় কিনবেন বলে ঠিক করেন।
দরদাম করে বেশ কমের মধ্যে একটা লাল গরু উনাদের পছন্দ হলো।
তো কিনে ফেললেন। বড়ো ঠাণ্ডা মেজাজের সে গরু।
দুইজনে তো বেজায় খুশি, এতো লক্ষ্মী গরু!
বাসার দিকে আসছেন।
পথে মানুষজন গরুর দাম জিজ্ঞেস করে আর অবাক হয়।
"মাশাল্লাহ্, ভালো হয়েছে।" বলে প্রশংসাও করেন অনেকে।
কিন্তু মাঝপথে একজন গরুর দাম শুনে চট করে গরুর নিচের দিকে উঁকি দেন।
ঠাস করে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল তুলে বললেন, "আরে ভাই! এইটা তো গাই, গাই!!"
"গাই!" ও মোর খোদা!
কিনতে গেলাম ষাঁড় - লইলাম গাই!!
কেনার সময় তো আর নিচে তাকাই নাই!!!
দুইজনের তো আক্কেলগুড়ুম অবস্থা!
এখন বাসায় গিয়ে কি বলবেন?
"ষাঁড়ের জায়গায় গাই! কি করলাম ভাই" টাইপ অবস্থা।
শেষে বুদ্ধি করা হলো বলা হবে যে,
"গাভীর চেহারা মায়াময়, চোখে মায়া - মুখে মায়া,
এমন কি ডাকেও কি সে সুগভীর মায়া!"
মায়ার টানেই এই গাই কিনলাম ভায়া!!
ঘটনা জানার পর মায়াই লাগছে!
না, ভাইয়েদের ষাঁড় ভেবে গাভী কেনার জন্য না।
গাইটার জন্য...
গরু কিনতে গেলে সাবধান,
এই জিনিসটা মনে রেখে যান।
একবার হলেও নিচে তাকানো চাই,
নাইলে ষাঁড় ভেবে নিয়ে আসবেন গাই!!
প্রাথমিকভাবে উনারা ষাঁড় কিনবেন বলে ঠিক করেন।
দরদাম করে বেশ কমের মধ্যে একটা লাল গরু উনাদের পছন্দ হলো।
তো কিনে ফেললেন। বড়ো ঠাণ্ডা মেজাজের সে গরু।
দুইজনে তো বেজায় খুশি, এতো লক্ষ্মী গরু!
বাসার দিকে আসছেন।
পথে মানুষজন গরুর দাম জিজ্ঞেস করে আর অবাক হয়।
"মাশাল্লাহ্, ভালো হয়েছে।" বলে প্রশংসাও করেন অনেকে।
কিন্তু মাঝপথে একজন গরুর দাম শুনে চট করে গরুর নিচের দিকে উঁকি দেন।
ঠাস করে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল তুলে বললেন, "আরে ভাই! এইটা তো গাই, গাই!!"
"গাই!" ও মোর খোদা!
কিনতে গেলাম ষাঁড় - লইলাম গাই!!
কেনার সময় তো আর নিচে তাকাই নাই!!!
দুইজনের তো আক্কেলগুড়ুম অবস্থা!
এখন বাসায় গিয়ে কি বলবেন?
"ষাঁড়ের জায়গায় গাই! কি করলাম ভাই" টাইপ অবস্থা।
শেষে বুদ্ধি করা হলো বলা হবে যে,
"গাভীর চেহারা মায়াময়, চোখে মায়া - মুখে মায়া,
এমন কি ডাকেও কি সে সুগভীর মায়া!"
মায়ার টানেই এই গাই কিনলাম ভায়া!!
ঘটনা জানার পর মায়াই লাগছে!
না, ভাইয়েদের ষাঁড় ভেবে গাভী কেনার জন্য না।
গাইটার জন্য...
গরু কিনতে গেলে সাবধান,
এই জিনিসটা মনে রেখে যান।
একবার হলেও নিচে তাকানো চাই,
নাইলে ষাঁড় ভেবে নিয়ে আসবেন গাই!!